ইপেপার / প্রিন্ট
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় চুরির অপবাদে এক যুবককে গাছের ডালে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে মারধর করার এক মধ্যযুগীয় বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। ০৪ ডিসেম্বর সকালে উপজেলা সদরের দক্ষিণ বুড়দেও গ্রামে জালাল নামের ওই যুবকের ওপর এই নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে গুরুতর আহত জালালকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। একই সঙ্গে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত আরফান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। জানা গেছে, ভিকটিম জালাল ও আটক আরফান দুজনই একই গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং জালালের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে ঘর থেকে বেঁধে এনে চুরির অপবাদ দিয়ে গাছের ডালে লটকিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধরের একপর্যায়ে সে গুরুতর আহত হয়। ঘটনার সময় অন্তত ২০–২৫ জন লোক উপস্থিত থাকলেও কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি— এমন অভিযোগ উঠেছে।
নির্যাতনের এমন দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেকেই মন্তব্য করেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির দফতরের পাশেই কীভাবে এমন বর্বরতা সংঘটিত হলো? চুরি করলেও নিজের হাতে বিচার করার কোনো অধিকার কারো নেই।”
জালালের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় একজন মানবাধিকার কর্মী। তিনি বলেন,
“ধরে নেওয়া যাক— সে চুরি করেছিল, তবুও এ ধরনের অমানবিক নির্যাতন ভয়াবহ অপরাধ। কেউ নিজে বিচারক হতে পারে না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”
ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর হাজারো মানুষ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। নেটিজেনরা বলেন—
“একজন মানুষকে গাছের ডালে ঝুলিয়ে এভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের প্রচলিত আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনিও কোনও সন্দেহভাজনকে এভাবে নির্যাতনের অনুমতি পায় না। যারা এই বর্বরতা করেছে, তাদের সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।”
ইতোমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করা হলেও বাকিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
একজন স্থানীয় সমাজকর্মী বলেন—
“অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগে এসে মানুষ কোথায় দাঁড়িয়েছে? মধ্যযুগীয় বর্বরতার এমন দৃশ্য আর কতদিন দেখতে হবে? সামাজিক সচেতনতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আর মানবিকতা ছাড়া এমন ঘটনার অবসান সম্ভব নয়।”
চুরির সন্দেহকে কেন্দ্র করে বর্বরোচিত এই নির্যাতন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করার সাহস পাবে না।