ইপেপার / প্রিন্ট
আব্দুল্লাহ আল নোমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (সাভার): সাভারের রাজফুলবাড়িয়া থেকে অপহরণের ২৪ ঘন্টার মধ্যে দুই বছরের শিশু কন্যা তাবাসসুম আক্তার রাইসাকে মতিঝিল থেকে উদ্ধার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। একই সাথে এ ঘটনায় জড়িত দুই অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০১ জুন) দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান পিপিএম (বার)।

অপহরণের শিকার শিশু তাবাসসুম আক্তার রাইসা রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার কৃষ্টপুর গ্রামের মো. দুলাল মিয়া ও রুজিনা আক্তার দম্পতির মেয়ে। তারা সাভারের রাজফুলবাড়ীয়ার রাজাঘাট এলাকার জনৈক করিম হাজীর বাড়ির ভাড়াটিয়া।

আটক দুজন হলেন- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার তাঞ্চনপুর এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে চাঁন মিয়া (৩০) এবং রাজধানীর লালবাগ থানার নবাবগঞ্জ বাজার এলাকার বৃষ্টি (২৮)। তারা উভয়ে স্বামী-স্ত্রী এবং সাভারের রাজফুলবাড়ীয়ার রাজাঘাট এলাকার জনৈক করিম হাজীর বাড়ির ভাড়াটিয়া।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান পিপিএম (বার) জানান, অপহৃত শিশুটির পরিবার এবং অপহরণকারীরা একই ভাড়া বাসায় বসবাস করার সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। সেই পরিচিতির সুযোগ নিয়ে আসামিরা শিশুটির বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ মে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে খেলাধুলার কথা বলে শিশু তাবাসসুম আক্তারকে নিয়ে যায় তারা। কিন্তু দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও আসামিরা শিশুটিকে নিয়ে ফিরে না আসায় শিশুটির পরিবার তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে।

একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অপহরণকারীদের নাম্বার থেকে শিশুটির বাবার মোবাইলে একটি কল আসে। যেখানে অপহরণকারীরা জানায় যে, শিশুটিকে ফেরত পেতে হলে হেমায়েতপুর যেতে হবে। তৎক্ষনাৎ শিশুটির বাবা তার আত্মীয় স্বজনসহ হেমায়েতপুর গিয়ে উক্ত নাম্বারে কল করলে অপহরণকারীরা টালবাহানা করতে থাকে এবং পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শিশু সন্তানকে ফেরত পেতে হলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে বলে জানায়। এসময় শিশুটির বাবা কোন উপায়ান্তর না পেয়ে আসামিদের নাম্বারে ৫ হাজার টাকা প্রদান করে। কিন্তু আসামিরা এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এবং বলে যে, ৩১ মে সকাল ১১টার মধ্যে দাবীকৃত সম্পূর্ণ টাকা না দিলে তার শিশু সন্তানকে প্রাণে মেরে ফেলবে। পরে হুমকি ধামকি প্রদান করে আসামিদের ফোন বন্ধ করে ফেলে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, শিশুটির বাবা উক্ত ঘটনাটি সাভার মডেল থানা পুলিশকে জানায়। পরে ঘটনাটি জানতে পেরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান পিপিএম (বার) দ্রুত অপহৃত শিশুকে উদ্ধার ও আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী পিপিএম (বার) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মোবাশ্শিরা হাবিব খান পিপিএম (সেবা) কে নির্দেশ প্রদান করেন। তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ ও সাভার মডেল থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস টিম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সর্বশেষ রাজধানীর মতিঝিল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহরণের ২৪ ঘন্টার মধ্যে দুই অপহরণকারীকে আটক ও অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০৩ এর ৭/৮/৩০ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া উক্ত ঘটনায় আরো কারা জড়িত আছে সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।