ইপেপার / প্রিন্ট
ঢাকার সাভারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার পলাতক আসামি ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বদরুল আলম সরদারকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ভাঙা ব্রিজ এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে রাতেই তাকে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি জুয়েল মিঞা।
র্যাব-৪ সিপিসি-২ কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. নাজমুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বদরুল আলম সরদারকে গ্রেফতার করা হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে তিনি গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।
গ্রেফতারের পর শুরু অপপ্রচার—বিএনপিকে জড়ানোর চেষ্টা
বদরুল আলমকে গ্রেফতারের পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায় নেমেছে বলে অভিযোগ মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বার্থন্বেষী এই মহল সোশ্যাল মিডিয়ায় বদরুল আলমের সঙ্গে বিএনপি নেতা–কর্মীদের নাম যুক্ত করে অপপ্রচার ছড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তথ্য অনুযায়ী, যারা এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কুৎসা রটাচ্ছেন, তারা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেই সম্পৃক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক সুবিধা লাভ ও জনগণের মাঝে বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বিএনপি নেতা–কর্মীর প্রতিক্রিয়া
আওয়ামী লীগ নেতার সাথে জড়িয়ে যেসব বিএনপি নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে—তাদের একজন বলেন,
“আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসররা বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের মানহানি করছে—তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
মামলার প্রেক্ষাপট
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত ছাত্র–জনতা হত্যার মামলায় বদরুল আলম সরদার মূল আসামিদের একজন। বহুদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে র্যাবের হাতে ধরা পড়েন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে গ্রেফতারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।