Vijay-এর রাজনৈতিক দল Tamilaga Vettri Kazhagam (টিভিকে) তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে সর্বোচ্চ আসন পেলেও সরকার গঠন এখনো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সাংবিধানিক জটিলতা এবং বিরোধী দলগুলোর সম্ভাব্য জোট নিয়ে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে।
নির্বাচনে ২৩৪ আসনের বিধানসভায় টিভিকে একাই জয় পেয়েছে ১০৭টি আসনে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ১১৮ আসন। পরে Indian National Congress-এর সঙ্গে জোট করলেও কংগ্রেসের ৫টি আসন মিলিয়ে টিভিকে জোটের মোট আসন দাঁড়ায় ১১২-তে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও ৬ আসন পিছিয়ে রয়েছে বিজয়ের দল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, তামিলনাড়ুর দুই বড় আঞ্চলিক দল Dravida Munnetra Kazhagam (ডিএমকে) এবং All India Anna Dravida Munnetra Kazhagam (এআইডিএমকে) টিভিকেকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে নিজেদের মধ্যে জোট গঠনের চেষ্টা করছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ডিএমকে ৫৯টি এবং এআইডিএমকে ৪৭টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে ছোট শরিক দলগুলোর আসন যোগ করলে ডিএমকে জোটের আসন দাঁড়ায় ৬৮ এবং এআইডিএমকে জোটের আসন ৫৩। দুই জোট এক হলে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ১২৩— যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট।
ডিএমকের জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে রয়েছে Indian Union Muslim League, Communist Party of India, Communist Party of India (Marxist) এবং ভিসিকে। অন্যদিকে এআইডিএমকের সঙ্গে রয়েছে পিএমকে, Bharatiya Janata Party এবং এএমএমকে।
গত ৬ মে বিজয় নিজের দলের এমএলএ এবং কংগ্রেস সদস্যদের নিয়ে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল R. N. Ravi-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান। তবে রাজ্যপাল তাকে প্রয়োজনীয় ১১৮ সদস্যের সমর্থন দেখাতে বলেন।
এর মধ্যেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর আসে যে ডিএমকে এবং এআইডিএমকের মধ্যে গোপনে জোট গঠনের আলোচনা চলছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, যদি জোট হয় তাহলে এআইডিএমকের সাধারণ সম্পাদক Edappadi K. Palaniswami মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন।
এই খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে টিভিকে। দলের একাধিক নেতা বলেছেন, যদি ডিএমকে ও এআইডিএমকে এক হয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করে, তাহলে বিজয়সহ টিভিকের নির্বাচিত ১০৭ জন এমএলএ একযোগে পদত্যাগ করবেন।
টিভিকের এক জ্যেষ্ঠ নেতা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জনগণ আমাদের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে নির্বাচিত করেছে। সেই রায় উপেক্ষা করা হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টিভিকে যদি সত্যিই পদত্যাগ করে, তাহলে তামিলনাড়ুতে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে এবং পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।