ইপেপার / প্রিন্ট
শিক্ষা কখনোই একতরফা প্রক্রিয়া হতে পারে না; বরং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, নীতিনির্ধারক ও সমাজের সব স্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি কার্যকর ও গুণগত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব—এমন মন্তব্য করেছেন শিক্ষা সচিব এবং বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের (বিএনসিইউ) সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেহানা পারভীন বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করা। এসব লক্ষ্য অর্জনে তরুণ সমাজের শক্তি, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা ব্যবস্থা যদি বাস্তবভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক না হয়, তবে তা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সক্ষমতা বিকাশে ব্যর্থ হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষকেন্দ্রিক বিষয় নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে নকশা ও বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে তা শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দদায়ক, সময়োপযোগী এবং কার্যকর হয়। এতে প্রজন্মের মধ্যে দূরত্বও কমে আসবে।
বাংলাদেশের তরুণ সমাজ সম্পর্কে শিক্ষা সচিব বলেন, সংখ্যায় ও অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্যে এ দেশের তরুণরা অত্যন্ত শক্তিশালী। নানা সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা এই তরুণরা অতীতেও দেশের কাঠামোগত ও কল্যাণমূলক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণদের সহজাত শক্তিকে সঠিক পথে কাজে লাগাতে সহশিক্ষা কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসকে সহশিক্ষাভিত্তিক আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করায় বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশন প্রশংসার দাবিদার। এর মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও তরুণ সমাজের মধ্যে একটি মানুষকেন্দ্রিক ও প্রগতিশীল চিন্তার পরিসর তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব ও বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রেহানা পারভীন বলেন, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে ১৯ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ এবং ৫ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে তরুণদের সচেতন, মানবিক ও ইতিবাচক নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ও বিএনসিইউ চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও বাংলাদেশে প্রতিনিধি সুজান ভাইজ।