ইপেপার / প্রিন্ট
আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারেও। বিশেষ করে ইরান–এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহজুড়ে ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে শেয়ারবাজারে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ তালিকাভুক্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে গেছে এবং বড় অঙ্কে কমেছে বাজার মূলধন।
সাপ্তাহিক লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ৫৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩২৫টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দাম বাড়ার তুলনায় প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।
এই দরপতনের ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি বড় পতন হয়েছে প্রধান সূচকগুলোতেও। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে কমেছে ৩৫৯ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট।
অন্যদিকে বাছাই করা বড় কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ১৫৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। একই সময়ে ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমেছে ৬৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা প্রায় ৬ শতাংশ।
লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে গত সপ্তাহে। ডিএসইতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৭২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ গড় লেনদেন কমেছে ২৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা প্রায় ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এদিকে টাকার অঙ্কে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন–এর শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের প্রায় ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।