ইপেপার / প্রিন্ট
জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য ও রংপুর-৪ আসনের আখতার হোসেন বিএনপির জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত অবস্থানের সমালোচনা করেছেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি বলেন, ঐক্যমত্য কমিশনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ধাপগুলো চূড়ান্ত হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি এখন সেই আলোচনার বাইরে গিয়ে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ফর্ম’ বা পুরোনো অবস্থায় ফিরে যেতে চাইছে।
আখতার হোসেন বলেন, “সংস্কারের ঘোড়া অনেক দূর এগিয়ে গেছে, কিন্তু এখন তাকে লাগাম পরানোর চেষ্টা চলছে। গত ৩১ জুলাই ঐক্যমত্য কমিশনে সংস্কারের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সেই সিদ্ধান্ত মানতে চাইছে না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে একটি বিশেষ ‘নোট’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ঐক্যমত্য কমিশনের খসড়ায় ছিল না। আখতার হোসেন বলেন, “ইতিহাস বিকৃত করে কেউ এই নোটটি অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমরা তদন্ত করে বের করতে চাই, কারা এই কাজ করেছে।”
সংবিধানের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ৫ আগস্টের পর একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা সংবিধান পুরোপুরি মানতেও পারছি না, আবার পুরোপুরি ছাড়তেও পারছি না। জনগণের অভিপ্রায়কে টেকসই করতে ‘জুলাই সনদ আদেশ’ জারি করা হয়েছে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি গণপরিষদ বা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছিল, যা কিছু সময়ের জন্য সমর্থিত হলেও বর্তমানে অনেকেই তা ভুলে গেছে।
বিএনপির গণভোটবিরোধী অবস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণভোটে উচ্চকক্ষ গঠন, নিরপেক্ষ বডির মাধ্যমে নিয়োগ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে না।”
বক্তব্যের শেষে তিনি স্পিকারের প্রতি বিনীত আহ্বান জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে উত্থাপিত প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার জন্য।