ইপেপার / প্রিন্ট
জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেমের পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহিম জোয়ারদার। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সংসদ ভবনের ‘এসআইএস’ সিস্টেমের কাজ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং অতিমূল্য দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাসকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘ওভার ইনভয়েসিং’ বা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। শুধু সংসদ ভবনই নয়, স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়েও একই কৌশলে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলের সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামতের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি সিস্টেম পরীক্ষা করে মেরামতের সক্ষমতার কথা জানায় এবং উচ্চমূল্যের একটি প্রাক্কলন জমা দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, কেবল পরীক্ষামূলক কাজের জন্যই প্রকৌশলীদের যাতায়াত, আবাসন ও সম্মানী বাবদ প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এছাড়া পুরো সিস্টেম মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় চার কোটি টাকার প্রাক্কলন দেওয়া হয়েছে, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দুদক ইতোমধ্যে টেন্ডার ও ক্রয় নথিপত্র, অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য, বিল-ভাউচার ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন, ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব অভিজ্ঞতা ও দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাও যাচাই করা হচ্ছে।
এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংসদ ভবনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার হওয়ার আশা করা হচ্ছে।