ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশেষ করে কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি যাতে প্রার্থী হতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে ইসি।
চিঠিতে নির্বাচন কমিশন দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের ঋণসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত যাচাই করা যায়।
ইসি জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হওয়ার পর বিকেল ৪টার দিকে প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পাঠানো হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন, তাই এই যাচাইকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে। এই সময়ের মধ্যেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মতামত ও তথ্য নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি ব্যাংক থেকে একজন প্রতিনিধি নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত থাকবেন বলেও অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো তথ্য না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে অযোগ্যতার বিষয় নেই বলেই ধরে নেওয়া হবে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, বাছাই শেষে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত আপিল করা যাবে এবং ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। এরপর ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ এবং ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত ৫০টি আসন আনুপাতিক হারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভাগ হবে। এর মধ্যে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোর্চা একটি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ৪৩১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং পাঁচজন ইতোমধ্যে জমা দিয়েছেন। তালিকায় রয়েছেন সানজিদা ইসলাম তুলি, নিলুফার চৌধুরী মনি ও নিপুন রায় চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন।
সব মিলিয়ে মনোনয়ন জমা, যাচাই-বাছাই এবং রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ—সবকিছু মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন এখন শেষ মুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।