ইপেপার / প্রিন্ট
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, আমরা এমন একটি স্থায়ী রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর নিজের ইচ্ছেমতো সংবিধান বিকৃত করতে না পারে। একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল (শুক্রবার) খাগড়াছড়ি জেলা টাউন হলে ‘গণভোট ২০২৬ : দেশের চাবি আপনার হাতে’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, দেশের চাবি এখন জনগণের হাতে। নিজেদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে সবাইকে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতার টানাপোড়েন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে আসতেই এই গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই চেতনা ধারণ করেই বাংলাদেশকে মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা দেশের ইতিহাসে এক বিরল মুহূর্ত।
তিনি আরও বলেন, “আমি এখানে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থী বা প্রতিনিধি নির্বাচনের কথা বলতে আসিনি। আপনারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেবেন।” জুলাই বিপ্লবে যেভাবে সাধারণ মানুষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, একইভাবে গণভোটকেও সফল করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় উপস্থিত সবাইকে জুলাই সনদের ১১টি পয়েন্ট মনে রাখার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি রাষ্ট্র সংস্কারের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
সভায় জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিস ও রামগড় তথ্য অফিসের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ এবং খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য।