ইপেপার / প্রিন্ট
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি অগ্নি সিস্টেমস পিএলসি–এর শেয়ারদর কারসাজির অভিযোগে ছয় ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ গত মাসে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে।
তদন্তে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুন থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে অস্বাভাবিক গতি লক্ষ্য করা যায়। এ সময় শেয়ারদর ২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩২ টাকায় পৌঁছে, যা প্রায় ৩০ দশমিক ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি। এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লেনদেন কার্যক্রম তদন্ত করে এবং ধারাবাহিক ও সমন্বিত লেনদেনের মাধ্যমে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টির প্রমাণ পায়।
নথিপত্রে দেখা যায়, মো. সানোয়ার খান, তার স্ত্রী আসমাউল হুসনা, ভাই মো. আনোয়ার পারভেজ খান, মো. বিপ্লব শেখ, মো. আবু তাহের শিকদার ও উম্মে সালমা নিপা সংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ঘন ঘন শেয়ার কেনাবেচা করেন। এসব লেনদেনের ফলে বাজারে কৃত্রিমভাবে সক্রিয় লেনদেনের চিত্র তৈরি হয় এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে সানোয়ার খান সিটি ব্যাংক পিএলসি–এর পোর্টফোলিও ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ব্যাংকের বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট লেনদেন সম্পন্ন হয়। কমিশনের শুনানিতে ব্যাংক জানায়, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত ছিল এবং তিনি অর্পিত ক্ষমতার আওতায় এসব সিদ্ধান্ত নেন। তদন্ত-সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর ব্যাংক তাকে শোকজ করে এবং পরে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে। তার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্তও চলমান রয়েছে।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের ১৭ ধারায় প্রতারণা, কারসাজি বা ধারাবাহিক লেনদেনের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শেয়ারদর প্রভাবিত করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধারার লঙ্ঘনের দায়ে কমিশন মো. সানোয়ার খানকে ১ কোটি ৫১ লাখ, মো. বিপ্লব শেখকে ৪ কোটি ৩০ লাখ, মো. আবু তাহের শিকদারকে ৬২ লাখ, আসমাউল হুসনাকে ১৫ লাখ, মো. আনোয়ার পারভেজ খান ও উম্মে সালমা নিপাকে ২ লাখ করে টাকা জরিমানা করে। পাশাপাশি সিটি ব্যাংক পিএলসিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে।
কমিশনের আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।