ঢাকায় অবস্থিত শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর দূতাবাসগুলো ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন করে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসা আবেদনের সঙ্গে জাল, ভুয়া বা কারসাজি করা কোনো কাগজপত্র জমা দিলে আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হবে।
সোমবার (১৮ মে) দেওয়া এক যৌথ সতর্কবার্তায় দূতাবাসগুলো আবেদনকারীদের শুধুমাত্র মূল (Original) ও অপরিবর্তিত (Unaltered) নথিপত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানায়। এতে বলা হয়, নথিপত্রে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু বর্তমান আবেদনই বাতিল হবে না, ভবিষ্যতের ভিসা আবেদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
দূতাবাসগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা আবেদনের সঙ্গে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, জাল চাকরির সনদ, কৃত্রিম ট্রেড লাইসেন্স, ভুয়া হোটেল বুকিং এবং সাজানো আর্থিক তথ্য জমা দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর দূতাবাসগুলো আধুনিক ডিজিটাল যাচাই পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ব্যাংক তথ্য, কর্মস্থলের সত্যতা, ট্রাভেল হিস্ট্রি এবং আর্থিক সক্ষমতা বিভিন্ন মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। ফলে জাল নথি ব্যবহার করে ভিসা পাওয়ার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে।
ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক আবেদনকারী দালালচক্রের প্ররোচনায় পড়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেন। পরে এসব তথ্য যাচাইয়ে ধরা পড়লে আবেদন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি আবেদনকারীর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ রেকর্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে।
তারা আবেদনকারীদের নিজ দায়িত্বে সঠিক তথ্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ব্যাংক লেনদেন, চাকরি, ব্যবসা কিংবা ভ্রমণসংক্রান্ত যেকোনো নথি জমা দেওয়ার আগে তা বৈধ ও হালনাগাদ কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শেনজেন ভিসা ইউরোপের একাধিক দেশে ভ্রমণের সুযোগ দেয়। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ পর্যটন, ব্যবসা, উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এই ভিসার জন্য আবেদন করেন। দূতাবাসগুলোর এই নতুন সতর্কবার্তাকে ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জালিয়াতি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।