ইপেপার / প্রিন্ট
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ভাগিনা রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, ভাগনি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৪ এর বিচারক রবিউল আলম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিন মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি সাবেক রাজউক কর্মকর্তা খুরশীদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহীনুর ইসলাম যুক্তিতর্ক তুলে ধরে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে এবং তার মক্কেলের খালাস চান। অন্যদিকে মামলার বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তারা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ পাননি।
দুদকের পক্ষে আইনজীবী হাফিজুর রহমান আদালতে বলেন, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন। তিনি মামলার সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রায়ের দিন ঘোষণা করেন।
মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলামসহ রাজউক ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের আরও একটি প্লট দুর্নীতি মামলার রায়ের জন্য একই তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। দুদকের দায়ের করা ছয়টি মামলার মধ্যে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা পরিবারের কয়েকটি মামলায় বিচার শেষে সাজা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেন, যা আইন ও বিধি বহির্ভূত।