ইপেপার / প্রিন্ট
শিশুরা ছোটবেলা থেকেই যা দেখে শেখে। নামাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা মানে শুধু একটি দৈনন্দিন রুটিন নয়, বরং তাদের হৃদয়ে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ও নৈতিক শিক্ষার বীজ বোনা।
শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। আজান শুনেই অজু করা এবং নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নেওয়া দেখান। বলুন, “আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় হয়ে গেছে, দেরি করা যাবে না।”
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সাত বছর বয়স থেকেই শিশুদের নামাজের নির্দেশ দিন। ১০ বছর বয়সে তারা নামাজ না পড়লে শাসন করুন।
বাড়িতে নামাজের জন্য একটি আলাদা কোণ বা ঘর বরাদ্দ করুন। এটি শুধু নামাজের জন্য ব্যবহার করা হবে এবং সবসময় পরিপাটি রাখুন।
নিয়মিত নামাজ পড়লে শিশুকে পুরস্কার দিন—উদাহরণস্বরূপ স্নেহপূর্ণ প্রশংসা বা ছোট উপহার।
সন্তানের বয়স সাত হলে ছোট খাটো নামাজ উৎসব আয়োজন করুন। নতুন জায়নামাজ, টুপি, হিজাব বা তসবিহ উপহার দিন।
শিশুকে আল্লাহর অসীম কুদরত ও করুণার গল্প শুনান। বোঝান, আল্লাহ আমাদের সব দিয়েছে এবং রক্ষা করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী বা সিরাত গল্পের মাধ্যমে বোঝান। শিশু নবীকে ভালোবাসলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নামাজে আগ্রহী হবে।
একসাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে শুরু করুন—প্রথমে এক ওয়াক্ত, তারপর দুই ওয়াক্ত, এভাবে অভ্যস্ত করুন।
শিশুদের অলসতা বা অনীহা দেখা দিলে ছাড় দেবেন না। অভ্যাসে পরিণত করার জন্য ধারাবাহিকতা অপরিহার্য।
দিনে অন্তত একবার পরিবারের সবাই মিলে জামাতে নামাজ পড়ার চেষ্টা করুন। বাবা ইমামতি করবেন, ছেলে সন্তান বড় হলে আজান দেবার দায়িত্ব দিন। নিয়মিত জুমা ও ঈদের নামাজেও শিশুকে সাথে নিয়ে যান।
এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে শিশুদের মনে নামাজের গুরুত্ব ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা গড়ে উঠবে এবং এটি তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যাবে।