ইপেপার / প্রিন্ট
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্ষমতার অপব্যবহার করে “গায়ের জোরে” বিসিবি দখল করেছিলেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,
“বিসিবি কোনো পরিবহনের স্ট্যান্ড নয় যে এখানে ‘বাপের দোয়া’ বা ‘মায়ের দোয়া’ মার্কা পকেট কমিটি চলবে।”
তিনি জানান, অতীতে গঠিত “অবৈধ” কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কাঠামো আনা হয়েছে এবং দেশের ক্রিকেটকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন,
“তামিম ইকবালের মতো বিশ্ববরেণ্য ক্রিকেটারদের হাতেই এখন দেশের ক্রিকেট নিরাপদ।”
মন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোকে প্রভাবিত করেন এবং একতরফাভাবে বোর্ড নিয়ন্ত্রণে নেন। ক্রীড়ামন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে “জঘন্য অনিয়ম” খুঁজে পেয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এর আগে একই অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিসিবির কমিটি ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সমালোচনা করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বিগত সময়ের নানা অনিয়মের সমালোচনা করেন।
বক্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মানবাধিকার কমিশনকে পুনর্গঠন করা হবে এবং গুমসহ গুরুতর অপরাধের বিচার আরও কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা যাতে সরাসরি আদালতে বিচার পায়, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সংসদে বিসিবি ইস্যুতে এই বক্তব্য দেশের ক্রীড়া প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সরকার একদিকে ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে “পেশাদার ও স্বচ্ছ” করার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ দলীয়করণের অভিযোগ তুলছে। ফলে বিষয়টি আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক ও জনমুখী আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।