ইপেপার / প্রিন্ট
রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে রপ্তানির বিপরীতে ক্যাশ ইনসেনটিভ প্রদান, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি (বাইশিমাস)।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর–রুনি মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো–২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও নীতিগত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় বাইশিমাসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রশিদ ও সহসভাপতি রাজু আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় ও কৌশলগত শিল্প। এই খাত কৃষি, টেক্সটাইল, নির্মাণ, বিদ্যুৎ, অটোমোবাইল ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে তিন লাখের বেশি দক্ষ কর্মী কর্মরত। জাতীয় জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় তিন শতাংশ।
তিনি জানান, দেশে প্রায় ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় অর্ধেক স্থানীয় শিল্পের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৩ হাজার ৮০০-এর বেশি ধরনের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম, ডাই ও ছাঁচ উৎপাদন হচ্ছে। তবে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা এই খাতে সম্প্রসারণের বড় সুযোগ নির্দেশ করে।
বাইশিমাস সভাপতি বলেন, সরকার ঘোষিত রপ্তানি নীতি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত থেকে ১২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে নীতিগত সহায়তা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আর্থিক প্রণোদনা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি জানান, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো–২০২৬’। এই এক্সপো ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরি, প্রযুক্তি হালনাগাদ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতটি নীতিগত প্রস্তাবনা তুলে ধরে বাইশিমাস। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং জোন স্থাপন করে কমপ্লায়েন্স সক্ষম কারখানা গড়ে তোলা, নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবনে সরকারি সহায়তা, কাঁচামালে শুল্ক কমানো, টেকনোলজি ট্রান্সফার ও দক্ষতা উন্নয়ন, দেশীয় ডিজাইন ও উদ্ভাবনের পেটেন্ট সুরক্ষা, নারী ও যুব কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং রপ্তানিকারকদের জন্য ক্যাশ ইনসেনটিভ ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের অগ্রাধিকার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এক্সপোর উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ হুসনা ফেরদৌস সুমি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য এক্সপো উন্মুক্ত থাকবে এবং আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শনী শেষ হবে।