রেলপথ মেরামত ও দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন উদ্ধারে নিয়োজিত প্রকৌশল বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের জন্য দৈনিক খাবার ভাতা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরুরি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত কর্মীরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৮৫ টাকা পর্যন্ত খাবার ভাতা পাবেন।
রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই ভাতার মধ্যে সকালের নাস্তার জন্য ৫০ টাকা, দুপুরের খাবারের জন্য ১০০ টাকা, বিকেলের নাস্তার জন্য ৩৫ টাকা এবং রাতের খাবারের জন্য ১০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টায় একজন কর্মী সর্বোচ্চ দুই বেলা প্রধান খাবার ও দুই বেলা নাস্তার ভাতা পাবেন।
ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ৮টা বা সন্ধ্যা ৬টার পর কাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট বেলার নাস্তার ভাতা প্রযোজ্য হবে না। একইভাবে দুপুর ১টা বা রাত ৯টার পরে কাজে যোগ দিলে ওই বেলার প্রধান খাবারের ভাতা পাওয়া যাবে না। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার সময়ের ওপর ভিত্তি করেও ভাতার হিসাব নির্ধারিত হবে।
তহবিল ব্যবস্থাপনার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রকৌশলীরা প্রতি মাসে সম্ভাব্য দুটি দুর্ঘটনা ধরে কর্মীদের উপস্থিতির ভিত্তিতে অগ্রিম অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। ৫০ জন কর্মীর জন্য এককালীন সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়ার সুযোগ থাকবে, যা পরবর্তীতে ভাউচার জমা দিয়ে সমন্বয় করতে হবে।
এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে অগ্রিম উত্তোলনে জটিলতা হলে সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্টেশনের আয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করতে পারবেন। তবে কাজ শেষে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হিসাব জমা দিতে হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, আগে কেবল যান্ত্রিক বিভাগের কর্মীরা এই ধরনের সুবিধা পেতেন। নতুন সিদ্ধান্তে প্রকৌশল বিভাগের কর্মীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর হবে এবং জরুরি উদ্ধার কাজে গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।