ইপেপার / প্রিন্ট
রাজশাহীতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল একটি সংঘবদ্ধ সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্র। অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সেই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এসময় তাদের কাছ থেকে জালিয়াতি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন কুমারপাড়া (ঘোষপাড়া) ও আলুপট্টি রোড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় অভিজিৎ মন্ডল (২৭) ও রায়হান আউয়াল (২১) নামে দুই যুবককে।
গ্রেপ্তারকৃত অভিজিৎ মন্ডল স্থানীয় অর্জুন মন্ডলের ছেলে এবং রায়হান আউয়াল রবিউল আওয়ালের ছেলে। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী শহরে বসবাস করলেও তাদের কার্যক্রম ছিল দেশব্যাপী বিস্তৃত।
র্যাব-৫ এর সদর কোম্পানির একটি বিশেষ অপারেশন দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানারসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সরঞ্জাম, যেগুলো ব্যবহার করে তারা নকল শিক্ষাগত সনদপত্র তৈরি করত।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার সংগ্রহ করত। এরপর অত্যন্ত কৌশলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকল মার্কশিট ও সার্টিফিকেট তৈরি করে গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করত। তাদের এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা স্বীকার করেছে যে, টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া সনদ তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত।
এই ধরনের অপরাধ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নকল সনদ ব্যবহার করে অনেকেই চাকরি বা অন্যান্য সুযোগ গ্রহণের চেষ্টা করে, যা প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের জন্য ক্ষতিকর এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে দুর্বল করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে তাদের নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এ ধরনের অপরাধ দিন দিন বাড়ছে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একইসঙ্গে শিক্ষা সনদ যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।