ইপেপার / প্রিন্ট
দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ জোরদার করার লক্ষ্যে ‘অল্টারনেটিভস’ নামে নতুন একটি সংলাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আগে সারা দেশে মানুষের মতামত ও প্রত্যাশা শোনার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook–এ ‘অল্টারনেটিভস’-এর একটি পোস্ট শেয়ার করেন তিনি। ওই পোস্টে প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরুর ঘোষণা এবং প্রথম আলোচনা সভার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রশ্ন বোঝার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত রাজনৈতিক সংলাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘অল্টারনেটিভস’-এর প্রথম কর্মসূচি হিসেবে ‘জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ: আমাদের ব্যর্থতা ও নতুন দিনের দিশা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তন–এ এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের জন্য রাষ্ট্র পুনর্গঠন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সংস্কার এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নিপীড়নের সংস্কৃতি ভাঙার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে কিছু আংশিক সংস্কার ছাড়া প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি; বরং পুরোনো ব্যবস্থাই নতুন রূপে ফিরে এসেছে।
বক্তব্যে তিনি জুলাই-পরবর্তী সময়ের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, কাঠামোগত নেতৃত্ব গঠন এবং জনগণের সঙ্গে জবাবদিহিমূলক সম্পর্ক তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, বৈষম্যের ধারাবাহিকতা, পুরোনো প্রশাসনিক ও পুলিশি কাঠামোর টিকে থাকা, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট এবং কর্মসংস্থানের অভাব—এসব কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংকট থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে তিনি জনগণের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ, আত্মসমালোচনা এবং বৃহত্তর সামাজিক-রাজনৈতিক সংহতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক শিক্ষার প্রসার, তাদের আকাঙ্ক্ষা ও হতাশা শোনা এবং শ্রমিক, কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্যোক্তাদের মতে, ‘অল্টারনেটিভস’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংলাপ আয়োজন করে সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হবে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সেসব মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।