1. numanashulianews@gmail.com : kazi sarmin islam : kazi sarmin islam
  2. islamkazisarmin@gmail.com : newstv : Md newstv
  3. anonnaa5481@gmail.com : newstv2232 :
  4. admin@newstvbangla.com : newstvbangla : Md Didar
রাজনৈতিক দাবার গুটি ‘তিস্তা’, মিলেনি হিস্যার পানি - NEWSTVBANGLA
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
Waarom bonusstructuren spelers aantrekken naar Cookie Casino ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন, ভুক্তভোগীকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজ উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় আদালতে পাঠানো খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইরান যাচ্ছে জামায়াতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেড়শ বছরের পুরোনো আইন বাতিল, কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস সাভারে ইটের দেয়াল তুলে চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী। বাইরে টাটকা, ভেতরে পচন—রোগবালাই ও দামে ধসের চাপে খাগড়াছড়ির আমচাষিরা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড ‘১ টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে’—আইনমন্ত্রী সরাইলে সুদের টাকা নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

রাজনৈতিক দাবার গুটি ‘তিস্তা’, মিলেনি হিস্যার পানি

প্রতিনিধি

ভারতের সিকিম থেকে নেমে আসা তিস্তা নদী নীলফামারী ও লালমনিরহাট পেরিয়ে রংপুর-গাইবান্ধা হয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারী স্পর্শ করেছে। সেখানে ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে মিশেছে তিস্তার প্রবাহ। উত্তরের পাঁচ জেলার জীবন রেখাখ্যাত এ নদী এখন পানি শূন্য। দুই মাসের ব্যবধানে পাল্টে গেছে তিস্তার চরাঞ্চলের চিত্র।

অথৈ পানির বুক শূন্য তিস্তার পেট এখন সবুজে পূর্ণ। নদীর পানি সরে যেতেই পাঁচ জেলার ৭৩৪টি চরের ৮১ হাজার হেক্টর জমি যেন রবি শস্যের ক্ষেত। চলতি মৌসুমে ৫০০ কোটি টাকার রবি শস্য উৎপাদনের আশা তিস্তাপাড়ের কৃষকদের।

মাঘময় হালকা শীতে চরের বুকে কৃষকরা যখন বীজ-সার হাতে নয়তো কোঁদাল-কাস্তে নিয়ে সবুজ বিপ্লবে ব্যস্ত। তখন দূর থেকে ভোটের বসন্তে ভেসে আসছে প্রার্থীদের হাকডাক। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে বালুময় নদীতে ছুটছেন কৃষকের কাছে। সংসদে যেতে বিভোর নেতার মুখের বুলি ‘পানির ন্যায্য হিস্যা’। কারো কণ্ঠে আবার মহাপরিকল্পনার আওয়াজ।

অথচ তিস্তাপাড়ের মানুষেরা বলছেন, রাজনীতির টানাপোড়নে দীর্ঘদিন আটকে আছে পানি। ন্যায্য হিস্যা বঞ্চিত মরুময় তিস্তা যেন দাবার নতুন গুটি ‘মহাপরিকল্পনা’। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার বদলেছে, নতুন করে এসেছে প্রতিশ্রুতি। ঘোষণা দিয়েও শুরু করা হয়নি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ। যেন ভোটের রাজনীতি ঝুলছে তিস্তপাড়ের দুই কোটি মানুষের ভাগ্য।

নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে ভারতের কাছ থেকে তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ব্যর্থ বাংলাদেশ। যার বড়ো প্রভাব পড়েছে দেশের উত্তর জনপদে। দেশের সবচেয়ে দারিদ্র্য ও গরিব জেলাগুলোর পাঁচটিই রয়েছে সর্বনাশা তিস্তাজুড়ে। ২৩৮ বছর বয়সী তিস্তার অসময়ের প্রবাহে প্রতিবছরই ডেকে আনছে বন্যা ও খরা। এতে ভারী হচ্ছে দীর্ঘশ্বাস।

পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় প্রতিনিয়ত পাল্টে যাচ্ছে তিস্তাপাড়ের জীবনচক্র। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিও পড়ছে ক্ষতির মুখে। প্রতিবছর সময়-অসময়ের বন্যায় পানির ধারণক্ষমতা কমে গেছে। উজানের পলিতে ভরাট হয়েছে তিস্তার বুক।

ফলে বর্ষায় ভারতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে তিস্তায় বন্যা দেখা দিচ্ছে। ফসল, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। অপরদিকে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদী শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হচ্ছে। অনেক স্থানে হেঁটে নদী পারাপার হন স্থানীয়রা।

বছরে দুই কোটি টন পলি আনছে তিস্তা

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, প্রতিবছর দুই কোটি টনের বেশি পলি আনছে তিস্তা। জেগে উঠছে নতুন নতুন চর। পলিতে নদীর বুক উঁচু হওয়ায় স্বল্প পানিতেই টইটম্বুর হয় তিস্তা। পানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। পথঘাট, ঘরবাড়ি, কৃষিজমি সবকিছু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।সেই সঙ্গে বর্ষা ও শরৎকালে বারবার ক্ষণস্থায়ী বন্যায় ভাসতে হয় তিস্তাপাড়ের মানুষকে।

তিস্তার বুক পলিতে ভরে যাওয়ায় রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদী পয়েন্টে বিপৎসীমা পরিবর্তন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পূর্বে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ছিল ২৮ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। এখন এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫৬ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে ২৯ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিস্তায় পানি নেই, মরুকরণ বাড়ছে

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, তিস্তা নদীনির্ভর উত্তরাঞ্চলের কৃষি আজ সংকটে। স্বাভাবিকভাবে যেখানে ন্যূনতম ১০ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা, সেখানে শুষ্ক মৌসুমে ২০০ কিউসেকও পাওয়া যাচ্ছে না।

যৌথ নদী কমিশন-জেআরসি জানায়, ১৯৮৭ সাল থেকেই ভারত একতরফাভাবে তিস্তার পানি প্রত্যাহার করছে। ২০০০ সালের দিকে এ সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করে। এরপরই ভারতের সঙ্গে এ চুক্তির বিষয়টি নিয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতারণামূলক পদক্ষেপের কারণে এ চুক্তিটি এখনো ঝুলে আছে।

নদী বিশেষজ্ঞদের দাবি, পানির হিস্যা আদায়ে চুক্তি হলেই বাংলাদেশ পানি পাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ তিস্তার দু’দেশের সীমান্ত এলাকায় পানি নেই। নদীর উজানে গজলডোবাসহ কয়েকটি এলাকায় অবৈধভাবে অসংখ্য কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ভারত। তারপরও পানির হিস্যা পেতে চুক্তি হওয়াটা জরুরি। এটি হলে ভারত চাপে থাকবে।

রংপুর অঞ্চল মূলত চরের জন্য বেশ সুপরিচিত। বিভাগে ছোট-বড় মিলিয়ে এমন চরের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭০০। শুকনো মৌসুম ছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময় এসব চরে নানা ধরনের ফসল ফলিয়ে থাকেন কৃষকরা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব ফসল চলে যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। কিন্তু ফসল উৎপাদনে সবচেয়ে বড় সমস্যা পানি। চাহিদা অনুযায়ী পানি না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ। দিন দিন তিস্তা সেচ প্রকল্পের পানি বণ্টনের হিসাবটাও সংকুচিত হয়ে আসছে।

রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া এলাকার স্থানীয় কৃষক রশিদুল, বিজয় সরকার, ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার ও শিক্ষার্থী রুবেল মিয়াসহ বিভিন্ন বয়সী অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা হয় তিস্তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে।

বিভিন্ন সময়ে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া এসব মানুষ জানান, তিস্তা নদী গত কয়েক বছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর ও ফসলি জমি। এই খরাকালে তিস্তায় পানি মিলছে না বললেই চলে। এই ভরা মৌসুমে পানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নদীতে পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নেমে যাচ্ছে। আর্সেনিকের মাত্রা বাড়ছে, হারিয়ে যাচ্ছে বিশাল মৎস্য সম্পদ, বিঘ্নিত হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

বামজোট নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, রংপুর অঞ্চলের ধান, পাট, আলুসহ অন্যান্য কৃষি ফসল দেশের অনেকাংশে চাহিদা পূরণ করে। এখন পানির অভাবে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত আর ক্রমান্বয়ে উত্তরাঞ্চল মরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশ তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোকে সেচ ও কৃষির জন্য ব্যবহার করে। কিন্তু পানি স্বল্পতার কারণে রংপুরসহ দেশের ছয় বিভাগের লাখ লাখ কৃষক ঠিকভাবে ফসল উৎপাদন করতে পারেন না। আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, নদীর শুষ্কতার কারণে প্রতিবছর ১৫ লাখ টন চাল উৎপাদন হয় না।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক মাস বিভিন্ন কর্মর্সূচি পালন করে।
পানির হিস্যার সঙ্গে প্রয়োজন নদীর সুরক্ষা

এমন পরিস্থিতিতে নদী গবেষক ও উন্নয়ন বিশ্লেষকরা বলছেন, নদীকেন্দ্রিক কৃষিজমি রক্ষা, ভাঙন রোধসহ চরগুলো রক্ষায় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। নয়তো উজানের পলিতে নদীর বুক ভরাট হলে স্বল্প পানিতে প্রতিবছর অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ বাড়তেই থাকবে। তারা মনে করছেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনি তিস্তা নদীর সুরক্ষার বিষয়টিও এখন জরুরি।

নদী গবেষক ও সংগঠক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, নদীকেন্দ্রিক কৃষিজমি রক্ষা, ভাঙন রোধসহ চরগুলো রক্ষায় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। নয়তো উজানের পলিতে নদীর বুক ভরাট হলে স্বল্প পানিতে প্রতিবছর অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ বাড়তেই থাকবে। পানির ন্যায্য হিস্যার যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনি তিস্তা নদীর সুরক্ষার বিষয়টিও এখন জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এ নদীর আজ অবধি কোনো পরিচর্যা করা হয়নি। ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ যুগের কোনো সময়েই এ নদীর সঠিক পরিচর্যা হয়নি। বরং দফায় দফায় এ নদীর সর্বনাশ করার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে যে নদী হয়ে ওঠার কথা ছিল উত্তরের জীবনরেখা, সেটা হয়ে উঠেছে অভিশাপ।

‘নদীকে যদি আমরা অভিশাপের হাত থেকে আশীর্বাদে পরিণত করতে চাই, তাহলে এ তিস্তা নদীর সুরক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজন। নদীর ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে আন্তর্জাতিক আদালতে এর প্রতিকার চেয়ে সরকারকে আবেদন করতে হবে, বলেন ড. তুহিন ওয়াদুদ।

তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, নদী ভাঙনে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি সম্পদ, ঘরবাড়ি, ফসলিজমি, রাস্তাঘাট, হাটবাজার মূল্যবান অবকাঠামো তিস্তা খেয়ে ফেলছে। হুমকিতে পড়েছে গোটা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা। বাড়ছে জলবায়ু শরণার্থী উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা। নদীভাঙনে বাড়ছে রংপুর বিভাগের গড় দারিদ্র্যের হার।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় দিনদিন পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে উঠেছে। খরাকালে তিস্তার দুই তীরের বিস্তৃত জনপদে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে। তিস্তার মরণে তিস্তার শাখা ও উপনদীগুলো (২২ টি) হচ্ছে বেদখল, হচ্ছে তিস্তার সঙ্গে সংযোগ হারা। তিস্তা খনন ও তিস্তা সংযুক্ত শাখা প্রশাখা নদীগুলোর মুখ খুলে না দিলে ভাঙন ও উপর্যুপরি বন্যার হাত থেকে পরিত্রাণ মিলবে না।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, আমরা যত স্থাপনাই তৈরি করি না কেন, আগে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ নিতে হবে। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের কৃষি ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতির সম্মুখীন।

তিনি আরও বলেন, উজানের দেশ হিসেবে ভারতের একতরফা তিস্তার পানি প্রত্যাহারে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও বাস্তুসংস্থান। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও পানি প্রত্যাহার বন্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের হস্তক্ষেপ জরুরি। অন্যথায় তিস্তা নদীর উপর নির্ভরশীল মানুষ, জনজীবন ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে। ভবিষ্যতে আরো মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

ভোটের আগে তিস্তা নিয়ে তোলপাড়

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সকল আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গত বছর ফুঁসে উঠে রংপুর অঞ্চলের মানুষ। বিএনপি তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে টানা কয়েক মাস বিভিন্ন কর্মর্সূচি পালন করে।

তিস্তা কর্তৃপক্ষ গঠন করে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও ভারতের কাছ থেকে সকল অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোরালো দাবি তুলে ধরেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। সরকারের পক্ষ থেকে তিস্তা নিয়ে আশার প্রদীপ জ্বালালেও সেই আলো এখনো ছড়িয়ে পড়েনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে তিস্তা নিয়ে বিভিন্ন দল তোলপাড় আন্দোলন করলেও এখন তিস্তা যেন ভোটযুদ্ধে রাজনৈতিক ‘দাবার গুটি’। বিগত পতিত সরকারের মতো ‘তিস্তার সুস্থ্য হয়ে ওঠা’ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে আটকে আছে।

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীবেষ্টিত লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধার মানুষ তিস্তা নদীর পানি বৈষম্যের শিকার হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমরা বাকস্বাধীনতা পেয়েছি। রংপুরের মানুষ তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে জেগে উঠেছে। তিস্তা পানি নিয়ে ভারতীয় আগ্রাসন ও বৈষম্যের বিষয়টি গোটা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে দলই সরকার গঠন করুক, আমরা তিস্তাপাড়ের মানুষের অধিকার আদায় করব ইনশাআল্লাহ।

তারেক রহমান ও শফিকুর রহমানের প্রতিশ্রুতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরবঙ্গে প্রথম তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত ২৩ জানুয়ারি রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, নদী জীবন ফিরে পেলে উত্তরবঙ্গ জীবন ফিরে পাবে। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে কারো ভালো লাগে এবং কারো লাগবে না, এতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে, উত্তরবঙ্গে প্রথম তিস্তাতেই কোদাল বসাব।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়। সেই কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তারেক রহমান। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাখা বক্তব্যের শেষে তিনি এক স্লোগানে বলেছিলেন ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও, জাগো বাহে দেশ বাঁচাও’। তিনি বলেছিলেন, ‘বিএনপি নির্বাচিত হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন আমরাই করব।’

গত ৩০ জানুয়ারি রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘এই (রংপুর অঞ্চল) এলাকাসহ সারা বাংলাদেশে একটি বিরাট সমস্যা হচ্ছে পানি সমস্যা। বিশেষ করে যেহেতু এলাকাটি কৃষি প্রধান। এই এলাকায় পানি সমস্যা সমাধানের জন্য কাজে হাত দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই এলাকার মানুষের স্বপ্ন পূরণের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজে যথাসম্ভব দ্রুত আমরা হাত দেব ইনশাআল্লাহ্।’

গত ১৯ জানুয়ারি রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার বক্তব্য

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ভারত অন্যায়ভাবে অভিন্ন নদীগুলোর পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এতে আমাদের জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

গত ১৯ জানুয়ারি রংপুরে সফরে এসে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর তালুক শাহবাজপুরে তিস্তা নদীর ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি একথা বলেন।

তিস্তা মেগাপ্রজেক্ট নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীন সরকার উভয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন নির্বাচনে তাদের ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাই তাড়াহুরো করে কাজটি শুরু হবে তা নয়, আমরা একটু সময় দেই যেন কাজটি আরও ভালোভাবে হয়।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ ছাড়া, এটি একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু। তাই আমরা মনে করি নির্বাচিত সরকার এসে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কাজ করবে। নির্বাচিত সরকার এসে যেন তাদের অপেক্ষা করতে না হয়, সেই প্রস্তুতিটা আমরা গঙ্গা ও তিস্তার ক্ষেত্রে করে দিয়েছি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2015
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তাহোস্ট
error: Content is protected !!