ইপেপার / প্রিন্ট
চটগ্রামের রাউজানে সন্ত্রাসীরা মেতেছে যেনো হত্যার প্রতিযোগিতায়। চট্টগ্রাম জেলার ১৬ টি থানার মধ্যে এই একটি উপজেলায় নিয়ে অস্থির প্রশাসন। হত্যা, চাঁদাবাজি, সংঘর্ষম ও সহিংসতার লাগাম কিছুতেই টানা যাচ্ছে না। ২৪৬ দশমিক ৫৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। পাহাড়, নদী ও খালবেষ্টিত রাউজানে বসবাস করেন ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৮ জন মানুষ। শিক্ষার হার ৮৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ হলেও কয়েকটি বিপথগামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কারণে পুরো উপজেলাই এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। এমন অবস্থায় বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর লাগামহীন এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রতিরোধে দিন রাত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকার পরেও এসব সন্ত্রাসীদের দমনে অস্থিরতায় পড়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বছরের পর বছর ধরে রাউজানে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর অস্তিত্ব থাকলেও গত বছরের ৫ আগস্টের পর এসব বাহিনীর তৎপরতা ও সংখ্যা যেন আরও বেড়ে গেছে। আধিপত্য বিম্তার, চাঁদাবাজি, বালু ও মাটির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ইটভাটা ও বিভিন্ন ব্যবসা প্ৰতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় এবং অপহরণ বাণিজ্যকে কেন্দ্ৰ করে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটছেই। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, গুলিবর্ষণ ও হামলা এখন এখানকার নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্হানীয় সূত্র জানায়, অধিকাংশ ঘটনাতেই দুৰ্বৃত্তরা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছ। কিন্তু এসব ঘটনায় জড়িতদের বড় একটি অংশ এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গত ৫ জানুয়ারি রাতে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে মোটরসাইকেলে আসা অস্ত্রধারীর গুলিতে নিহত হোন বিএনপি নেতা জানে আলম সিকদার (৫০) | তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং রাউজান বিএনপির একাংশের নেতৃত্বদানকারী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। নিজ বাড়ির সামনেই দুৰ্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সর্বশেষ চলতি বছরের গত ২৬ ফেব্রুয়ারি যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলটি পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে।
উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০)। তিনি অলিমিয়াহাট বাজার এলাকার বাসিন্দা। দলীয় সূত্রের দাবি, তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যায় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হন আবদুল মজিদ। এ সময় বাজারেই মুখোশ পরা একদল অস্ত্রধারী যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সরে পড়ে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন মজিদকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, তাঁর চোখের ওপরে, বুকে ও কোমরে মোট তিনটি গুলি লাগে।এছাড়াও সর্বশেষ
এবিষয়ে জেলা পুলিশ সূত্র জানান,রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি এলাকাকে মার্ক করে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের বিশেষ অভিযান চলমান। এই অভিযানে চাঁদাবাজ,হত্যাকারী, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কি না? এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবিষয়ে নির্দিষ্ট কোন মন্তব্য করতে পারছিনা তবে অপরাধের সঙ্গে যেই’ই জড়িত হোকনা কেন তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আইনগত পদক্ষেপের আওতায় আনা হবে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাজেদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজান থানায় হত্যা মামলা হয়েছে মোট ১৭টি এর মধ্যে ১৩টি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বেশীরভাগ আসামিই গ্রেফতার হয়েছে,বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছেন। উল্লেখিত ১৭ টি হত্যা মামলার মধ্যে পাঁচটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে যা আসলে হত্যা না। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া পাঁচ মামলার গুলোর মধ্যে রুপা দেবী নামের এক মহিলা পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেন, রুপা নামের আরেকজন ব্যাক্তিগত কারণে আত্মহত্যা করেন, আত্মহত্যার কারণ (প্রাইভেসি রক্ষায় উল্লেখ করা হয়নি), এছাড়াও ইউচুপ নামের একজনকে নিজ ঘরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তদন্তে তার সাধারণ মৃত্যু বলে জানা যায়, এবং আজম খাঁন নামের এক অটোরিকশা চালক মদ্যপান অবস্থায় ডোবায় পড়ে মৃত্যু হয়,এছাড়াও গণপিটুনিতে রুবেল নামের একজনের মৃত্যু হয়। উল্লেখিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া মামলাগুলো তদন্তের প্রাপ্ত নিরিক্ষার ভিত্তিতে হত্যাকান্ড না হয়ওয়ায় আদালতে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন ২০২৫ সালের (৭ডিসেম্বর) যোগদানের পর নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি দশের অধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে যাতে বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি’সহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও আমার থানাতে যথেষ্ট ফোর্স ও অফিসার রয়েছে যেঘটনা গুলো ঘটছে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এবং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রাউজান থানা পুলিশ