সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:
রংপুরে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংকের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন, অপর্যাপ্ত জনবল, অনিয়মিত চিকিৎসা ও ভুল রিপোর্টের কারণে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তদারকি না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
📌 প্রধান বিষয়সমূহ:
- চিকিৎসা দুর্ঘটনা ও অভিযানের উদাহরণ:
- ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যু ও ভুল চিকিৎসার ঘটনা ঘটেছে। যেমন:
- শিশু জুঁই মনি (১২) – অপারেশনের সময় মৃত্যু, আরোগ্য ক্লিনিকে অভিযান ও জরিমানা।
- সারজিনা খাতুন (৩৯) – রেনেসাঁ হাসপাতালে পিএলআইডি অপারেশনের পর মৃত্যু।
- ওখিল চন্দ্র বর্মন – নিরাময় ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে অপারেশন ভুলের কারণে মৃত্যু।
- মুশফিকুর রহমান রাসেল (৬০+) – সান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টে মৃত্যুর অভিযোগ।
- অবৈধতা ও লাইসেন্সের অভাব:
- স্বাস্থ্যসেবার ৮০% প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স নেই।
- অনুমোদনহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মধ্যে অনেকের অপারেশন থিয়েটার, ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান নেই।
- জরিমানা বা সিলগালা হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানগুলো আবার কার্যক্রম শুরু করছে।
- পরিস্থিতি ও অবকাঠামো:
- নগরীর রাস্তা ও অলিগলি ঘিরে “ব্যাঙের ছাতার মতো” অসংখ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।
- অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি বেড, অনিয়মিত চিকিৎসক ও নার্স, পুরোনো যন্ত্রপাতি ও অনভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান।
- তদারকি ও দায়বদ্ধতার অভাব:
- স্বাস্থ্য বিভাগ, সিভিল সার্জন কার্যালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পর্যাপ্ত তদারকি করছে না।
- বেসরকারি ক্লিনিক মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লাইসেন্সবিহীনভাবে বছরের পর বছর ব্যবসা চালাচ্ছে।
- পরিসংখ্যান:
- রংপুর জেলায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার – ১৭৭টি, ব্লাড ব্যাংক – ৯টি (মাত্র ৩টির বৈধ লাইসেন্স)।
- তিন মাসে ১১ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।
- সচেতন মহলের মন্তব্য:
- স্বাস্থ্য খাত বাণিজ্যিক হয়ে পড়ায় রোগীর প্রতি দায়বদ্ধতা নেই।
- স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশে পরিচালনা করার জন্য কঠোর তদারকি ও ‘হেলথ সিটি’ গঠনের প্রস্তাব।
💡 মূল দাবি:
রংপুরে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, বৈধ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি তদারকি, দায়িত্ববান চিকিৎসক ও পরিষ্কার পরিবেশের প্রয়োজন। লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা, স্বাস্থ্যসেবার সুনির্দিষ্ট তথ্য তৈরি ও নিয়মিত মনিটরিং অপরিহার্য।