ইপেপার / প্রিন্ট
টানা সামরিক উত্তেজনা ও হামলার মধ্যেও ইরান-এর ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের পতনের কোনো তাৎক্ষণিক সম্ভাবনা দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। অন্তত চারজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১২ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর ব্যাপক সামরিক হামলা সত্ত্বেও ইরানে সরকার পতনের কোনো সুস্পষ্ট সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বরং সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশটির সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি সমর্থন কিছুটা বেড়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের শেষ দিকে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনে অস্থির হয়ে উঠেছিল ইরান। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে সেই আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আনে তেহরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার।
গত ২৮ অক্টোবর তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে টানা ২১ দিন আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়।
পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান “অপারেশন এপিক ফিউরি” শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও “অপারেশন রোয়ারিং লায়ন” নামে পৃথক সামরিক অভিযান চালায়। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ দেশটির অন্তত ৪০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ইরানের এলিট বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারও ছিলেন।
পরে দেশটির প্রভাবশালী সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি-কে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। একই সঙ্গে নিহত সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শূন্যপদও অনেকাংশে পূরণ করা হয়েছে।
এদিকে সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে ক্ষমতা দখলের আহ্বান জানিয়ে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছিলেন। তবে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়ে ইরানে স্থলবাহিনী পাঠাতে ট্রাম্প আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
মার্কিন গোয়েন্দা মহলের একটি অংশ ইরানের এলিট বাহিনী আইআরজিসিকে দুর্বল করতে বিদ্রোহী কুর্দ যোদ্ধাদের ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছিল। এ নিয়ে ইরাক-এ কুর্দ নেতাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠকও হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এ পরিকল্পনা নিয়েও সংশয় রয়েছে। কারণ কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্তি ও সামরিক সক্ষমতা আইআরজিসির মতো শক্তিশালী বাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যকর হবে কি না— তা নিয়ে সন্দিহান ওয়াশিং