ইপেপার / প্রিন্ট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif। তিনি জানিয়েছেন, উভয় দেশই প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে এবং বর্তমানে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
পাকিস্তানের এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন Abbas Araghchi। তিনি বলেন, সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে গণমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় জল্পনা-কল্পনা না করে চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করা উচিত। যথাসময়ে চুক্তির বিস্তারিত জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং ইরানের ফ্রোজেন অর্থের একটি অংশ ছাড়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের কথাও রয়েছে।
তবে চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ও পারমাণবিক প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এখনো কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুযায়ী, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত বা বন্ধ করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এর বিনিময়েই অর্থনৈতিক সুবিধা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে JD Vance স্পষ্ট করেছেন যে শুধুমাত্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই ইরান কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে না। চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের ওপরই ভবিষ্যৎ সুবিধা নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই চুক্তি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।