ইপেপার / প্রিন্ট
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের সীমা এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের সরকারি ঘোষণায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলেছে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ মারাত্মক ভোগান্তি ও আর্থিক সংকটে পড়বে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। গ্রাম ও শহর—সবখানেই দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, প্রবাসীর পরিবার, রোগীর স্বজনসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সেবার ওপর নির্ভরশীল। নির্বাচন উপলক্ষে হঠাৎ করে এ সেবায় কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য চরম দুর্ভোগ, আর্থিক ক্ষতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সীমিত করা হলে জরুরি চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধ, পারিবারিক সহায়তা পাঠানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা এবং ব্যবসায়িক লেনদেন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, প্রবাসীর পরিবার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, অনলাইন উদ্যোক্তা এবং ডিজিটাল পেমেন্টনির্ভর ব্যবসায়িক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে যুক্ত লক্ষাধিক এজেন্ট ও কর্মীদের আয় ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে। এতে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও জনপ্রিয় আর্থিক সেবায় এমন সীমাবদ্ধতা আরোপ কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়। এতে অপরাধ দমন কার্যকরভাবে সম্ভব হবে না; বরং সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হবেন।
সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে আনুমানিক ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এই খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন কয়েক কোটি গ্রাহক, লক্ষাধিক এজেন্ট ও হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সেবা সীমিত থাকলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন স্থবির হয়ে পড়বে, যার দায় বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকেই।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন সীমিত করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনকালেও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা পূর্ণমাত্রায় চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।