ইপেপার / প্রিন্ট
দারুণ ছন্দে ফিরেছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। প্রীতি ম্যাচে আফ্রিকার দল জাম্বিয়া জাতীয় ফুটবল দল–কে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শক্তির বার্তা দিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
ম্যাচের আগেই কোচ লিওনেল স্কালোনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, একাদশে থাকবেন লিওনেল মেসি—এবং সেই ঘোষণা বাস্তবে রূপ নেয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে দলের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেন মেসি। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান হুলিয়ান আলভারেজ।
ম্যাচের শুরুতেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে। মাত্র ৪ মিনিটে মেসির নিখুঁত পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলভারেজ। এরপর প্রথমার্ধের একেবারে শেষদিকে নিজেই গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছন্দ ধরে রাখে আলবিসেলেস্তেরা। ৫০ মিনিটে নিকোলাস ওতামেন্দি পেনাল্টি থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন। এই পেনাল্টিটি আদায় করেন থিয়াগো আলমাদা, যিনি বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হন।
এরপর ম্যাচের ৬৮ মিনিটে চাপ সামলাতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করেন জাম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডমিনিক চান্দা। শেষ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ে (৯৩ মিনিট) ভ্যালেন্টিন বারকো গোল করে ৫-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়াম–এ, বুয়েনস এইরেস। মার্চে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত দুই প্রীতি ম্যাচেই জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা, যা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ–এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দিক বিবেচনায় স্কালোনি এ ম্যাচে একাধিক পরিবর্তন আনেন। মোট আটজন বদলি নামানো হয়, এমনকি ৭৪ মিনিটে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ–এর পরিবর্তে সুযোগ দেওয়া হয় হুয়ান মুসো–কে।
এই ম্যাচে একটি বিশেষ মাইলফলকও স্পর্শ করেন মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৪০টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি, যা আর্জেন্টাইন ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া, দেশের মাটিতে জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তার শেষ গোল হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, এই জয় শুধু একটি প্রীতি ম্যাচের ফল নয়—বরং বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার শক্তি, গভীরতা এবং আত্মবিশ্বাসের একটি স্পষ্ট বার্তা।