ইপেপার / প্রিন্ট
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শততম টেস্ট খেলাটাই যেখানে অনেক ক্রিকেটারের কাছে গর্বের, সেখানে সেই ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকানো একেবারে ব্যতিক্রমী অর্জন। বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম এবার সেই অনন্য ক্লাবে নিজের নাম লেখালেন। কিংবদন্তিদের পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশের এই নির্ভরযোগ্য উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
কিন্তু মুশফিকের আগেও আরও বেশ কয়েকজন বিশ্বসেরা ক্রিকেটার এই কীর্তি গড়ে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে। একে একে দেখে নেওয়া যাক—কে কী করেছেন, এবং কিভাবে তারা হয়ে উঠেছিলেন ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ।
প্রথমেই আসি ইংল্যান্ডের ক্রিকেট কিংবদন্তি কলিন কাউড্রের কথায়। তিনিই ছিলেন বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার যিনি নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার ১০৪ রানের ইনিংস তাকে এনে দেয় অমরত্ব।
এরপর পাকিস্তানের ব্যাটিং জিনিয়াস জাভেদ মিয়াদাদ। ১৯৮৯ সালে শততম টেস্টে তিনি খেলেছিলেন ১৪৫ রানের দারুণ ইনিংস। চাপের ম্যাচেও তার স্বাভাবিক দৃঢ়তা ও অভিজ্ঞতা পাকিস্তানকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত লিড।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং মাস্টার গর্ডন গ্রিনিজও পিছিয়ে ছিলেন না। ১৯৯০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার ১৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস আজও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা প্রদর্শনীর মধ্যে একটি।
এরপর আসে ইংল্যান্ড দলের আরেক তারকা অ্যালেক স্টুয়ার্ট। ২০০০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তার ১০৫ রানের সেঞ্চুরি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে তার দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
পাকিস্তানের ব্যাটিং কিংবদন্তি ইনজামাম-উল-হক তার শততম টেস্টকে স্মরণীয় করে রেখেছিলেন ১৮৪* রানের অপরাজিত মহাকাব্যিক ইনিংস দিয়ে। বাংলার দর্শকদের কাছেও স্মরণীয় সেই ইনজামাম, যিনি বড় ম্যাচে সবসময়ই ছিলেন ভরসার নাম।
অস্ট্রেলিয়ার আরেক মহাতারকা রিকি পন্টিং এই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম। নিজের শততম টেস্টে তিনি করেছিলেন দুই ইনিংসে দুই সেঞ্চুরি—প্রথম ইনিংসে ১২০ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৩*। টেস্ট ইতিহাসে এটি একমাত্র ঘটনা, যা আজও ভাঙা হয়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকার দুই তারকা গ্রায়েম স্মিথ ও হাশিম আমলাও যোগ দিয়েছেন এই কীর্তির তালিকায়। স্মিথ করেছিলেন ১৩১ এবং আমলা ১৩৪ রান। দু’জনই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ইতিহাসের স্তম্ভ।
আধুনিক যুগে এসে এই তালিকায় যোগ দেন ইংল্যান্ডের ব্যাটিং মায়েস্ত্রো জো রুট। ভারতের বিপক্ষে তিনি করেছিলেন ২১৮ রানের ডবল সেঞ্চুরি—শততম টেস্টে ডবল সেঞ্চুরি টেস্ট ক্রিকেটে বিরল ঘটনা।
আরো একটি ডবল সেঞ্চুরি আসে অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণাত্মক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার-এর ব্যাট থেকে। নিজের শততম টেস্টে তিনি করেন ২০০ রান, যা তাকে ইতিহাসের পাতায় আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
আর এবার, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন মুশফিকুর রহিম। দেশের হয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় নিয়মিত খেলা এই ব্যাটার শততম টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজেকে জায়গা দিলেন বিশ্ব ক্রিকেটের একচেটিয়া ক্লাবে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে এক স্মরণীয় অর্জন।
যারা খেলেছেন শত শত টেস্ট, তাদের জন্য শততম টেস্ট হয়তো সংখ্যার খেলা। কিন্তু যারা অসাধারণ মাইলফলক তৈরি করতে চান—তাদের জন্য শততম টেস্ট হচ্ছে এক অনুভূতির, এক আবেগের, এক গর্বের জায়গা। আর সেই জায়গায় মুশফিক নিজের নাম রেখে দিলেন অমলিনভাবে।