ইপেপার / প্রিন্ট
জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)-এ মিয়ানমারের আইনজীবী কো কো হ্লেইং বলেছেন, দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
হ্লেইং জানান, ২০১৭ সালের জুলাইতে রাখাইন রাজ্যের পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে সন্ত্রাসী হামলার পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সন্ত্রাস দমন অভিযানে নেমেছিল। তিনি বলেন, “সেই অভিযানের মধ্যে সাধারণ রোহিঙ্গাদের কোনো লক্ষ্যভ্রষ্ট বা গণহত্যামূলক তৎপরতা ছিল না। আন্তর্জাতিক মহলে অভিযানকে ভুলভাবে গণহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য মিয়ানমার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কোভিড-১৯ ও অন্যান্য কারণে তা এখনও সম্পূর্ণভাবে সম্ভব হয়নি।
সংক্রান্ত প্রেক্ষাপট:
২০১৭ সালে রাখাইনে সামরিক অভিযান শুরু হয়, যখন স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) পুলিশ ও সেনা স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযানের নামে রোহিঙ্গা গ্রামে প্রবেশ করে, যা থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশে পালিয়ে যায়।
বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা সেই সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দল ২০১৭ সালের ঘটনাগুলি তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে তা ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এরপর ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার গাম্বিয়া দেশ আইসিজেতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা করে।
আইসিজের শুনানি গত ১২ জানুয়ারি শুরু হয়, যেখানে মিয়ানমারের পক্ষের আইনজীবী কো কো হ্লেইং আদালতে যুক্তি দেন যে, অভিযান ছিল সন্ত্রাস দমন অভিযানের অংশ এবং আন্তর্জাতিক মহলে এটিকে ভুলভাবে গণহত্যা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।