মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যেসব দেশ ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করবে, তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।
রোববার ইরানের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকরামিনিয়া রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি “আইনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা” কার্যকর করেছে এবং এখন থেকে এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করেই চলাচল করতে হবে।
আকরামিনিয়া বলেন, “যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতিকে অনুসরণ করবে, তারা নিশ্চিতভাবেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সমস্যার সম্মুখীন হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগতভাবে লাভবান হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য যেন তারা ইরানকে কোনো অর্থ প্রদান না করে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকেই এই কৌশলগত জলপথকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইন জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিয়েছে, যেখানে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি-ও একই ধরনের কড়া বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, “বাহরাইনের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসহ যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে সমর্থন করবে, তাদের জন্য এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।”
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনেও এটি অন্যতম প্রধান রুট। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের প্রস্তাব আটকে দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।