ইপেপার / প্রিন্ট
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি আরও আক্রমণাত্মক রূপে বাস্তবায়ন করছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণের পর এবার ট্রাম্পের রণতরি দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর উপকূলে প্রবেশ করেছে। ‘মাদক সন্ত্রাস’ দমনকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে এই সামরিক হস্তক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের সূত্রপাত করেছে।
মার্কিন ‘সাউদার্ন কমান্ড’ বুধবার (৫ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ৩ মার্চ থেকে ইকুয়েডরের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান এটিকে মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে একটি ‘শক্তিশালী উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের নতুন কৌশল।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাফ জানিয়েছেন, গোলার্ধের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো আপস করবে না। ইতোমধ্যেই নজরদারি ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টারের মহড়া ইকুয়েডরের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের নতুন ‘মিলিটারি ম্যানুয়াল’ অনুযায়ী, মাদক পাচার সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি ‘যুদ্ধ’। বড় বড় মাদক কার্টেলগুলোকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে মার্কিন বাহিনী সরাসরি হামলার আইনি সুযোগ পাচ্ছে। ইতোমধ্যেই ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী জলযানে অন্তত ৪৪টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ১৫০ জন নিহত হয়েছেন। সমালোচকরা এই হত্যাকাণ্ডকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং নিহতদের মধ্যে অনেককে সাধারণ মৎস্যজীবী বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ইকুয়েডরের অভিযানটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। মাত্র দুই মাস আগে ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলাতে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন কারাগারে বন্দি করা হয়েছিল। জাতিসংঘ একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বললেও ট্রাম্প প্রশাসন উপেক্ষা করেছে।
ইকুয়েডরকে মাদক পাচারের ‘আদর্শ রুট’ হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে একই ধরনের অভিযান চালাচ্ছে। ইকুয়েডর একসময় লাতিন আমেরিকার শান্তির দ্বীপ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে কলম্বিয়া ও পেরুর কোকেন পাচারের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। দেশটির ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ট্রাম্পের ‘লোহার মুষ্টি’ নীতি স্বাগত জানিয়েছে, তবে সমালোচকরা এটিকে মার্কিন সেনাদের জন্য ‘ল্যাবরেটরি’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
ইরানের আকাশ থেকে ইকুয়েডরের সমুদ্র পর্যন্ত, ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক বাহিনী সর্বত্র সক্রিয়। ‘মাদক নির্মূল’ বা ‘সন্ত্রাস দমন’ যাই হোক না কেন, এই নতুন যুদ্ধ-ফ্রন্ট বিশ্বকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে আলোচনার চেয়ে বারুদের গন্ধই বেশি তীব্র।