ইপেপার / প্রিন্ট
রাষ্ট্রপতি ১৯ জানুয়ারি জারি করেছেন ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬’, যা অনুমোদন ছাড়া ভূমি ও কৃষিজমির অপব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রাখছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা জরিমানা, বা উভয় দণ্ড। তবে এটি পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
অধ্যাদেশে বিভিন্ন অপরাধ ও শাস্তি নিম্নরূপ বর্ণিত:
অনুমোদন ছাড়া ভূমি জোন পরিবর্তন: সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার: সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমিতে বাণিজ্যিক/শিল্প/আবাসন/রিসোর্ট নির্মাণ: সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ৪ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
কৃষিভূমির টপ সয়েল, পাহাড় বা জলাধারের মাটি ব্যবহার: সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
বিশেষ কৃষি অঞ্চলে ক্ষতিসাধন বা অন্য কাজে ব্যবহার: সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। অতিরিক্তভাবে ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ থাকবে।
অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে, জলাধার, জলাভূমি, পাহাড়, টিলা, বন ও বনভূমি ক্ষতিসাধন ও ভূমিরূপ পরিবর্তন-সংক্রান্ত অপরাধ অ-আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য। এছাড়া, এসব ক্ষেত্রে ভূমির প্রকৃতি পুনঃস্থাপন, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সরকারের এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ভূমি ও কৃষিজমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন রক্ষা করা, যাতে ভূমি অপব্যবহার এবং অবৈধ পরিবর্তন রোধ করা যায়।