ইপেপার / প্রিন্ট
লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে একটি নৌকা ডুবে কমপক্ষে ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি।
রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, আর অন্যান্যদের অস্থায়ীভাবে একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তার ভাষায়, “এটি প্রমাণ করে মানবপাচারকারীরা কোনো মানবিক দিক বিবেচনা না করেই মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে।”
সরকার জানিয়েছে, জীবিতদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। এজন্য—
এসব প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এ ঘটনায় একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র জড়িত, যারা বাংলাদেশ ও লিবিয়ায় সক্রিয়। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে বিপজ্জনক পথে পাঠিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত চক্রটি শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করার কথাও জানান।
এ ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। সরকার বলছে, শুধু এ ঘটনার বিচার নয়, ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি ঠেকাতে মানবপাচার বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।