রাজধানীর যানজটপূর্ণ সড়কে ভিন্নধর্মী এক মানবিক ঘটনার নজির স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভিভিআইপি বহরের চলাচলের সময় সাধারণত অন্যান্য যানবাহনকে থামিয়ে রাখা হলেও এবার তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে।
বুধবার (৬ মে ২০২৬) সকালে তিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বনানী এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে কারওয়ানবাজার এফডিসি মোড়ের দিকে যাওয়ার সময় তার গাড়িবহরের সামনে হঠাৎ একটি অ্যাম্বুলেন্স পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাইরেন বাজিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে তার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অ্যাম্বুলেন্সটিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটিকে নির্বিঘ্নে পথ পার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি আশপাশের মানুষের নজরে এলে তারা এটিকে ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখেন। সাধারণত ভিভিআইপি বহরের কারণে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু জরুরি সেবার যানকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এটি ছিল সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় নেওয়া একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, যা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এ ধরনের পদক্ষেপ জীবন বাঁচাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজধানীতে নিয়মিত যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন প্রায়ই বিলম্বিত হয়। এমন বাস্তবতায় ভিভিআইপি বহরের পক্ষ থেকে পথ ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাকে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের দৃষ্টান্ত আরও বাড়ানো প্রয়োজন।