ইপেপার / প্রিন্ট
যুক্তরাষ্ট্র-এর সামরিক বাহিনী সেন্টকোম (সেন্ট্রাল কমান্ড) ইরান-এর পতাকাবাহী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সংস্থা ও মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে।
জব্দ হওয়া জাহাজগুলো হলো ‘ডিপ সি’, ‘সেভিন’ এবং ‘দোরেনা’। এই তিনটি ট্যাংকারেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ছিল।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্র্যাফিক-এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজগুলো ভারত মহাসাগর-এর একটি এলাকায় আটক করা হয়েছে, যা ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা-এর সামুদ্রিক অঞ্চলের কাছাকাছি।
জাহাজগুলোর মধ্যে ‘ডিপ সি’ একটি সুপারট্যাংকার, যা জব্দের সময় আংশিকভাবে তেলপূর্ণ ছিল। ‘সেভিন’ নামের ট্যাংকারটিতে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল, যা এর মোট ধারণক্ষমতার প্রায় ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে ‘দোরেনা’ পুরোপুরি তেলভর্তি ছিল এবং এতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাওয়া গেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ জোরদার করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ এপ্রিল তিনি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন।
ওই ঘোষণায় বলা হয়, ইরান শান্তিচুক্তিতে না আসা পর্যন্ত দেশটির বন্দর থেকে কোনো জাহাজ বের হতে পারবে না এবং বাইরের জাহাজও প্রবেশ করতে পারবে না।
সেন্টকোম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া অন্তত ২৯টি জাহাজকে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।