ইপেপার / প্রিন্ট
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণ। পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় এবার এ দাবিতে রাজপথে নেমেছেন দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজের পর বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা বাস টার্মিনাল থেকে ইল্লা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। খাঞ্জাপুর ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে গৌরনদী, উজিরপুর ও মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারীরা ‘নিরাপদ সড়ক চাই, জীবন বাঁচাতে ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক চাই’—এমন নানা স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।
পরে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা সম্প্রতি গৌরনদীর খাঞ্জাপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কুয়েতপ্রবাসী সোহেল ফকিরের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা কমাতে দ্রুত মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়কে যানবাহনের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কিন্তু এখনও দুই লেনের সরু সড়কে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকারের পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহন চলাচল করায় প্রায়ই যানজট ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।
তাদের দাবি, ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণ করা হলে যানজট কমবে, দুর্ঘটনার হার হ্রাস পাবে, কৃষিপণ্য ও পণ্য পরিবহন সহজ হবে, পায়রা ও মোংলা বন্দরের যোগাযোগ উন্নত হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।
আলোচনা সভা শেষে বিক্ষোভকারীরা প্রায় আধাঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। অবরোধে আটকে পড়া যাত্রীরাও এলাকাবাসীর দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে দ্রুত ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।