ইপেপার / প্রিন্ট
আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে নির্ভরতার নাম—‘মা’কে সম্মান ও ভালোবাসা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিনটি। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এ বিশেষ দিবস।
মা শুধু একটি শব্দ নয়, এটি এক অনন্ত ভালোবাসা, মমতা, ত্যাগ আর নিরাপত্তার প্রতীক। জীবনের প্রতিটি ধাপে সন্তানের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির নাম মা। ছোটবেলায় হাঁটতে শেখা থেকে শুরু করে জীবনের কঠিন মুহূর্তে সাহস জোগানো—সবখানেই মায়ের উপস্থিতি অনিবার্য।
বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়েদের সঙ্গে ছবি ও স্মৃতি ভাগাভাগি করছেন অনেকে। কেউ লিখছেন মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা, কেউ আবার শৈশবের স্মৃতিচারণায় আবেগাপ্লুত হচ্ছেন।
বাংলা সাহিত্যেও মাকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য কবিতা, গান ও গল্প। কবি কাদের নেওয়াজ লিখেছিলেন—
“মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই,
ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।”
মায়ের প্রতি এই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা যুগে যুগে সাহিত্যে, সংস্কৃতিতে এবং মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। জন্মের পর প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক এবং প্রথম বন্ধু হিসেবে মায়ের ভূমিকা অনন্য। সন্তানের সুখ-দুঃখ, ভয়-স্বপ্ন—সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মায়ের অকৃত্রিম স্নেহ।
বিশ্ব মা দিবসের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৮ সালে মার্কিন শিক্ষিকা আনা জার্ভিস প্রথমবারের মতো মা দিবস পালনের উদ্যোগ নেন। তার মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিস–এর মৃত্যুর পর তিনি মায়েদের সম্মান জানাতে বিশেষ একটি দিবস চালুর আন্দোলন শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটি স্বীকৃতি পায় এবং পরে তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
অনেকের মতে, মায়ের জন্য আলাদা কোনো দিনের প্রয়োজন নেই। কারণ প্রতিটি দিনই মায়ের। তবুও ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে অন্তত একটি দিন মাকে বিশেষভাবে ভালোবাসা ও সম্মান জানানোর সুযোগ এনে দেয় বিশ্ব মা দিবস।
আজকের এই দিনে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। প্রত্যাশা একটাই—সব মা সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, ভালোবাসায় ঘেরা থাকুন।