ইপেপার / প্রিন্ট
সোনার বাজারে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই দেশের বাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর কমে যাওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯২৫ টাকা পর্যন্ত সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকা।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। নতুন নির্ধারিত দাম সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর হবে।
বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। যদিও রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল, তবে শনিবার যে দরপতন দেখা গেছে, সেটিই এখনও কার্যকর রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস ডট অর্গের তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে ৪ হাজার ৮৯৩ ডলারে, যা আগের দিন ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার। এরও একদিন আগে বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছাড়িয়েছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯ টাকা।
তবে সোনার দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা নির্ধারণ করা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে বাজুস একধাপে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা দাম বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উন্নীত করে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার সকালে ভরিপ্রতি ১৪ হাজার ৬০০ টাকা কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়, ফলে দাম নেমে আসে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায়।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকায় আগামী দিনগুলোতেও দেশের বাজারে সোনার দামে পরিবর্তন আসতে পারে।