বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, বিরোধী দল যে ধরনের সংস্কারের কথা বলে, তা মূলত ক্ষমতার ভাগাভাগি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই করা হয়। তবে তারা দেশের স্বাস্থ্যখাতসহ বাস্তব উন্নয়নমূলক সংস্কার নিয়ে কখনও কার্যকর আলোচনা করে না।
রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিরোধী দল মাঝে মাঝে সংস্কারের কথা বলে, জুলাই সনদের কথা বলে। কিন্তু তারা শুধু সেই সংস্কারের কথাই বলে, যেটি তাদের ক্ষমতার ভাগ নিশ্চিত করবে। স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার নিয়ে তারা একদিনও কথা বলেনি।”
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ের দুর্বল শাসনের কারণে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আগের সরকারের পতনের পর বর্তমান সংসদ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নিয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে।
স্বাস্থ্য বাজেট প্রসঙ্গে তিনি জানান, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে—প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। তার মতে, এই বিনিয়োগ শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং একটি সমন্বিত, সাশ্রয়ী ও সবার জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই করা হয়েছে।
ডা. মুহিত বলেন, দেশে বর্তমানে ৭১ শতাংশ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক রোগ (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগ)। পাশাপাশি দ্রুত নগরায়ণ, মহামারি ঝুঁকি এবং স্বাস্থ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা একটি বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তুলনামূলকভাবে থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপে এই হার অনেক কম।
প্রতিমন্ত্রী বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে বলেন, তারা যদি সত্যিই স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারে আগ্রহী হতো, তবে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে সংসদে আলোচনা করতো। কিন্তু তারা সেটি করেনি।
তিনি বলেন, সরকার একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সমানভাবে চিকিৎসা সুবিধা পাবে। এ জন্য প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু চিকিৎসা নয়, বরং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়ে একটি টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা।