ইপেপার / প্রিন্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে আর্থিক খাতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বয়সসীমা বাতিল সংক্রান্ত বিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ সময় বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরে সরকারের নিয়োগপ্রাপ্তদের পারফরম্যান্স দেখার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তিনি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন (সংশোধন) ২০২৬ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বিল দুটিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগের বয়সসীমা বিলোপের প্রস্তাব রয়েছে।
বিলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় কাজে লাগানোর স্বার্থেই বয়সসীমা শিথিল করা প্রয়োজন। তিনি জানান, ১৯৯৩ সালে যখন সিকিউরিটিজ কমিশন আইন করা হয়, তখন মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর, যা এখন বেড়ে ৭২ বছরে পৌঁছেছে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কেবল বয়সের কারণে দক্ষ ব্যক্তিদের কেন দায়িত্বের বাইরে রাখা হবে? বিশ্বের অনেক সফল অর্থনীতিতে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বয়সের নির্দিষ্ট সীমা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে মন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বয়সসীমা তুলে দিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিকীকরণের পথে এগোচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, কারও রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু যোগ্যতা থাকলে দায়িত্ব দেওয়ায় সমস্যা নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরকে নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “প্রুফ অব দ্য পুডিং ইজ ইন দ্য ইটিং”— অর্থাৎ সময়ই প্রমাণ করবে তিনি কতটা সফল। তাই আগে তার কাজের ফলাফল দেখা উচিত।
এদিকে আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন প্রশ্ন তোলেন, কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে সুবিধা দিতেই কি বয়সসীমা তুলে দেওয়া হচ্ছে? তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।