ইপেপার / প্রিন্ট
জ্বালানি সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসকদের মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির কারণে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। তবে স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এলাকায় তীব্র লোডশেডিং চলছে, যা হাসপাতালের নিয়মিত কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে কোনো জেনারেটর নেই। আইপিএস থাকলেও তা প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে সেটিও অচল। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়।
বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ড অন্ধকার হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় চিকিৎসকরা নিজেদের মোবাইল ফোনের টর্চ ব্যবহার করে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ড্রেসিং এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন। এমনকি রোগীর নথিপত্রে নোট লেখার কাজও করতে হচ্ছে এই সীমিত আলোতেই।
রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা বদিউল আলম বলেন, জেনারেটর না থাকা এবং আইপিএস অচল থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তীব্র লোডশেডিংয়ে চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামিয়া ইসলাম নিপুণ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে কাজ করতে হচ্ছে এবং মোবাইলের আলো ব্যবহার করে হাসপাতালের রাউন্ড দিতে হচ্ছে। প্রতিকূলতার মধ্যেও চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
এদিকে চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার জানান, জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত জেনারেটর ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এমন পরিস্থিতি আরও প্রকট হতে পারে।