সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। অস্ট্রেলিয়া, কুয়েত, ইতালি ও সার্বিয়ায় চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা নেওয়ার পর ভুয়া ভিসা ও টিকিট ধরিয়ে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় চক্রটি।
এ ঘটনায় দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তাররা হলেন নুসরাত জাহান এবং মো. সোহান।
র্যাব জানায়, রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ‘বিএফসি গ্লোবাল কনসালটেন্সি’ নামে একটি অফিস খুলে ফেসবুকে চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করত চক্রটি। সেখানে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগের কথা বলা হতো। বিজ্ঞাপন দেখে আগ্রহীরা যোগাযোগ করলে জনপ্রতি নির্ধারণ করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা—অস্ট্রেলিয়ার জন্য ৯ লাখ, কুয়েতের জন্য ৬ লাখ, ইতালির জন্য ২০ লাখ এবং সার্বিয়ার জন্য ৮ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগীরা বিদেশ যাওয়ার আশায় বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা জমা দেন। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তিন মাসের মধ্যেই তাদের বিদেশে পাঠানো হবে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার কিছুদিন পর ভুক্তভোগীদের হাতে ভুয়া ভিসা তুলে দেওয়া হয়। পরে ফ্লাইটের তারিখ ঠিক করে বুকিং করা বিমানের টিকিটের কপিও দেওয়া হয়। তবে যাত্রার আগমুহূর্তে বিভিন্ন অজুহাতে জানানো হয় টিকিট বাতিল হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় চক্রটি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর র্যাব-৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৪–এর মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির অন্য সদস্যদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।