কক্সবাজারের রামুতে গবাদিপশু আমদানিকে কেন্দ্র করে ‘বিট-খাটাল’ নামে একটি কথিত প্রকল্প ঘিরে বড় ধরনের প্রতারণা ও জালিয়াতির পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টার স্বাক্ষর জাল করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আলাউদ্দিন রবিন জানান, তিনি মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি কার্যক্রম শুরু করতে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে একটি চক্র তাকে সরকারি অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয় এবং একটি ভুয়া অনুমোদনপত্রও তৈরি করা হয়।
তদন্ত ও মামলার নথি অনুযায়ী, এই চক্রটি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নাম ও স্বাক্ষর জাল করে ৫ লাখ গরু আমদানির একটি মঞ্জুরিপত্র তৈরি করে। পাশাপাশি গরু প্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি প্রতারণার পরিকল্পনা সাজানো হয়।
পরে ভুক্তভোগী মন্ত্রণালয়ে গিয়ে যাচাই করলে জানতে পারেন, এমন কোনো আবেদনই সেখানে জমা হয়নি। এরপর তিনি মামলা দায়ের করেন এবং ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে উঠে আসে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বরখাস্ত) শাহাবুদ্দীন আহমদসহ পাঁচজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া নথি, আবেদনপত্র এবং স্বাক্ষর আদান-প্রদান করত।
সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ভুয়া অনুমোদনপত্র তৈরি করা হয়। এমনকি সরকারি বদলির সুপারিশ সংক্রান্ত বার্তাও তাদের কথোপকথনে পাওয়া গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চক্রটি একটি অফিস ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুমোদনের নামে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তিনি কোনো অগ্রিম অর্থ প্রদান করেননি এবং সন্দেহ হওয়ায় সরাসরি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেন। পরে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেন।
সিআইডি জানিয়েছে, তদন্ত শেষে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির একাধিক ধারা অনুযায়ী মামলা চলছে।
এদিকে ‘বিট-খাটাল’ মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় গবাদিপশু ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায়ের একটি সরকারি কাঠামো হলেও, এই নাম ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।