ইপেপার / প্রিন্ট
দেশীয় প্রসাধনী শিল্পের বিকাশ ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে আগামী বাজেটে ভ্যাট ও শুল্ক ছাড়ের দাবি জানিয়েছে কসমেটিকস খাতের শীর্ষ সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি)।
সংগঠনটি বলছে, দেশে উৎপাদিত কালার কসমেটিকস ও ডার্মাস্কিন কেয়ার পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতি দেওয়া হলে নতুন শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে এবং বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এএসবিএমইবি জানায়, বর্তমানে কাঁচামালের ওপর উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে দেশীয় উৎপাদকদের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সাবান উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ‘সোপ নুডুলস’-এর ওপর ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি ও ৩ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি থাকায় উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অন্যদিকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কম শুল্কে কাঁচামাল আমদানি করে তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করতে পারছে, ফলে দেশীয় উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি আশরাফুল আম্বিয়া বলেন, প্রসাধনী শিল্প দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদন শুরু হয়েছে, যা আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, আমদানিকৃত পণ্যের ট্যারিফ মূল্য কম নির্ধারণ এবং শুল্ক ফাঁকির কারণে বাজারে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্যারিফ নির্ধারণ এবং শুল্ক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার দাবি জানান তিনি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রসাধনী পণ্যের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার কালার কসমেটিকস এবং ২৫ হাজার কোটি টাকার স্কিন কেয়ার পণ্যের বাজার রয়েছে। তবে এর বড় একটি অংশ এখনো চোরাই ও নকল পণ্যের দখলে রয়েছে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী মনে করেন, নিম্নমানের বিদেশি পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশীয় শিল্পকে নীতিগত সহায়তা দিলে রাজস্ব আয় বাড়বে ও অর্থপাচার কমবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথ নীতিসহায়তা পেলে কসমেটিকস খাত ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।