ইপেপার / প্রিন্ট
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন ইতিবাচক বার্তা নিয়ে সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নকভি-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শনিবার (৯ মে) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বহুমাত্রিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উভয় নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তারা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক আস্থা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়। এছাড়া ক্রীড়া, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ব্যাপারেও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে ডিজিটাল উদ্ভাবন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মহিলা শিল্পোদ্যোগ উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
বৈঠকে মানুষে মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর জোর দেন দুই মন্ত্রী। শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং পারস্পরিক সফর বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা SAARC-কে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।
অন্যদিকে পাকিস্তানের মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নকভিও দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সহযোগিতামূলক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বৈঠক বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথে এগোতে পারে।