বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (Special Economic Zone) ও হাই-টেক পার্কগুলোতে কুয়েতের আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল Syed Tareq Hossain। এ বিষয়ে তিনি কুয়েত আমিরি দিওয়ানবিষয়ক মন্ত্রী Sheikh Hamad Jaber Al-Ali Al-Sabah-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎটি সম্প্রতি কুয়েতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
রাষ্ট্রদূত বৈঠকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাই-টেক পার্ক এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি কুয়েতি বিনিয়োগকারীদের এসব খাতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে শিল্প ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়া ও সিরামিক শিল্পে রপ্তানি সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, আইটি বিশেষজ্ঞ ও নার্সসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনবল কুয়েতের উন্নয়ন চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে।
আলোচনায় দুই পক্ষই বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, প্রতিরক্ষা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় করেন। তারা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূত পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি কুয়েতের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ১৯৭৪ সালে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্তিতে কুয়েতের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে কুয়েতের মন্ত্রী কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ১৯৯১ সালের কুয়েত মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন।
উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে একমত হন।