ইপেপার / প্রিন্ট
আজ পয়লা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিনকে ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে বইছে উৎসবের আমেজ। শীতের বিদায় আর নতুন ঋতুর আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজেছে। গাছে গাছে কচি পাতার সবুজ, শিমুল-পলাশের লাল আভা আর ফুলের মিষ্টি সুবাসে মুখর চারপাশ।রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই বসন্ত বরণের আয়োজন দেখা গেছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। হলুদ, বাসন্তী ও কমলা রঙের পোশাকে তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়। গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যে স্বাগত জানানো হয় বসন্তকে।
১৯৯১ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগেই আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্ত বরণ উৎসব শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে তা জাতীয় উৎসবে রূপ নেয়।
পয়লা ফাল্গুনের সঙ্গে মিল রেখে ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশে ভালোবাসা দিবসও পালিত হচ্ছে। ফলে ফুলের দোকান, উপহারের সামগ্রীর শোরুম ও রেস্তোরাঁগুলোতে ছিল বাড়তি ভিড়। অনেকেই প্রিয়জনের সঙ্গে দিনটি উদযাপন করেছেন ফুল ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে।
বসন্ত শুধু প্রকৃতির রূপবদল নয়, বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনারও অংশ। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়-এর ভাষায়, “ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত।” অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শাহ আব্দুল করিম-এর গান ও কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে বসন্তের আবেগ ও ভালোবাসা।
এ মাসের রয়েছে রাজনৈতিক তাৎপর্যও। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ফাগুনে নতুন করে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। শিমুল ও কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙ মনে করিয়ে দেয় ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা।
সব মিলিয়ে পয়লা ফাল্গুন বাঙালির কাছে কেবল ঋতুর পরিবর্তন নয়, বরং নতুন প্রাণের জাগরণ, ভালোবাসার উচ্ছ্বাস এবং ইতিহাসের স্মরণে এক অনন্য দিন। 🌼