ইপেপার / প্রিন্ট
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে পুরাতন বা অকেজো ঘোষিত লৌহ, রাবার ও তামা জাতীয় মালামাল বিক্রিতে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, বিক্রয়ের নিয়মে অনিয়ম থাকায় সরকার অন্তত ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অনুসন্ধান মূলত বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লি. (বিসিএমসিএল)-এর ২০২৪ সালের মার্চ মাসে আয়োজন করা দরপত্রকে কেন্দ্র করে করা হচ্ছে।
সূত্রে জানা যায়, ওই সময় অকেজো ঘোষিত লৌহ ৫,৯৯৯ টন, রাবার ২৫ টন এবং তামা ২.৫ টন খুচরা যন্ত্রাংশসহ বিক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। লৌহের দর নির্ধারিত ছিল ৩০ টাকা, রাবারের ৪ টাকা এবং তামার ৫৭৩ টাকা। তবে একই সময়ে পেট্রোবাংলার মধ্যপাড়া গ্রানাই মাইনিং কোম্পানিতে ওই মালামালের বাজার দর যথাক্রমে লৌহ ৪২, রাবার ১৫ ও তামা ৫০০ টাকা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দরপত্রে সঠিক প্রতিযোগিতা না থাকায় সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যদি দরপত্রে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিত, তবে লৌহ, রাবার ও তামা বিক্রিতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আসতে পারত।
দুদক ইতিমধ্যেই দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। অনুসন্ধানের মাধ্যমে মালামাল বিক্রয়ে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক ক্ষতির দায় নির্ধারণ করা হবে।
দুদকের এ উদ্যোগকে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।