ইপেপার / প্রিন্ট
১১ মার্চ ২০২৬, ঢাকা – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কমিশন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য জানান।
নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। বগুড়া-৬ আসনের ক্ষেত্রে আগে গণভোট নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেরপুর-৩ আসনে গণভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে না বলে গণভোট নেওয়া হয়নি।
নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ডেপ্লয়মেন্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এই নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। তবে এবার কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বডি–ওর্ন ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। প্রয়োজন অনুসারে একটি কেন্দ্রে একাধিক ক্যামেরা ব্যবহার করা হতে পারে।
নির্বাচনে আট দিনের জন্য আনসার বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বিজিবি, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনী তদন্ত কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ইতোমধ্যেই মাঠে কাজ শুরু করেছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা শেষ হয়েছে। আপিল না আসায় প্রার্থিতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ মার্চ, এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৫ মার্চ।
প্রবাসী ভোটারদের জন্যও ভোট প্রদান ব্যবস্থা রয়েছে। ওসিবি (Overseas Ballot) ও আইসিবি (Inside Country Ballot) দুই ধরনের পোস্টাল ব্যালট ব্যবহৃত হবে। ওসিবি ব্যালট আগামীকাল থেকে পাঠানো শুরু হবে, আর দেশের ভেতরে পোস্টাল ভোট ২৩ বা ২৪ মার্চ থেকে গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে যে, দুটি আসনের নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হবে। প্রতিটি কেন্দ্রের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে পর্যালোচনা করা যায়। কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায়—একটিতে ১৫০টি এবং অন্যটিতে ২৮টি কেন্দ্র—ফলাফল দ্রুত প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “কেউ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর কার্যক্রম বা অভিযোগ দিচ্ছেন না। প্রত্যাশা, সকল প্রার্থী ও ভোটার দায়িত্বশীল আচরণ করবেন।”
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে অনুষ্ঠিত হবে। সকল আইনশৃঙ্খলা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু রাখার জন্য রাখা হয়েছে।