যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে সহযোগিতা ও মিত্রতার সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে স্বাগত জানানোর পর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে এবং এ উপলক্ষে তিনি মার্কিন জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ।
চীনা প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “সহযোগিতা দুই দেশকেই লাভবান করবে, আর সংঘাত উভয়ের ক্ষতি ডেকে আনবে। প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার বদলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মিত্র হওয়া উচিত। একসঙ্গে সফল হওয়া এবং একই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে তার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আপনি একজন মহান নেতা। অনেকে আমার এ কথা পছন্দ করেন না, কিন্তু আমি এটি বলি কারণ এটি সত্য।”
তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্কবার্তা
বৈঠকে তাইওয়ান প্রসঙ্গও গুরুত্ব পায়। শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নটি দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যু। এটি সঠিকভাবে মোকাবিলা না করা হলে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব এমনকি সংঘাতও সৃষ্টি হতে পারে।
চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, শি বলেন, “তাইওয়ান ইস্যু সঠিকভাবে সামাল দেওয়া গেলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু ভুলভাবে পরিচালিত হলে এটি পুরো সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।”
তিনি আরও দাবি করেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতার প্রচেষ্টা তাইওয়ান প্রণালির স্থিতিশীলতার পরিপন্থী। তার মতে, তাইওয়ান প্রণালির স্থিতিশীলতা দুই পরাশক্তির সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।