ইপেপার / প্রিন্ট
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পারিবারিক সংকট ও দাম্পত্য কলহে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন এক পাকিস্তানি নাগরিক। চলন্ত গাড়ি থেকে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করলে তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ৯৯৯–এর কলটেকার কনস্টেবল বায়েজিদ কলটি গ্রহণ করেন এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে অবহিত করেন। কলার নিজেকে একজন পাকিস্তানি নাগরিক ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বাংলাদেশে একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং চার বছর আগে এক বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করেছেন। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে।
কলার জানান, তিনি প্রতি মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা বেতন পান এবং বেতনের বেশিরভাগই স্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এরপরও তার স্ত্রী অতিরিক্ত টাকার দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন এবং অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছেন। এসব কারণে তিনি চরম মানসিক বিপর্যয়ে পড়েন এবং আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
ফোনালাপে কান্নায় ভেঙে পড়া ওই ব্যক্তিকে শান্ত করার চেষ্টা করেন ৯৯৯–এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তাকে গাড়ি থামানোর অনুরোধ জানানো হয় এবং আইনি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার বাসার ঠিকানা অনুযায়ী বিষয়টি তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে তুরাগ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেখানে কলারের সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও শাশুড়িও উপস্থিত হন। সবার উপস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির মীমাংসা করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় স্বামী বা স্ত্রী কেউই লিখিত অভিযোগ দিতে রাজি হননি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে থানায় এসে আইনগত সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।